বাংলা চলচ্চিত্রে আবারও এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন পরিচালক পাবলো তাঁর নতুন ছবি “রঞ্জন আসছে” নিয়ে, যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি সমাজের কঠিন বাস্তবকে তুলে ধরা হয়েছে গভীর সংবেদনশীলতার সঙ্গে। এই ছবির গল্পে লেখক জয়ের জীবন যেন এক দ্বিধার প্রতিচ্ছবি, যেখানে তিনি নিজের সেরা গল্প লিখতে গিয়ে বাস্তব এবং কল্পনার মাঝে আটকে পড়েন। প্রকাশিকা নয়নতারা’র তাগিদে শুরু হওয়া এই যাত্রা ধীরে ধীরে এক মানসিক এবং সামাজিক অনুসন্ধানে পরিণত হয়, যা দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করবে।
জয়ের কল্পনায় তার স্ত্রী মন্দাক্রান্তা হয়ে ওঠেন ‘রেবতী’, এক শান্ত, সংযত এবং ধর্মপ্রাণ নারী, যিনি সব কিছু মেনে নিয়ে নীরবে জীবন কাটান। কিন্তু বাস্তবের মন্দাক্রান্তা সেই চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। তার ভেতরে জন্ম নেয় ‘মায়া’, এক প্রতিবাদী সত্তা, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শেখায়। এই দুই সত্তার দ্বন্দ্বই ছবির মূল শক্তি, যা এক নারীর আত্মপরিচয় এবং স্বাধীনতার লড়াইকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে তুলে ধরে।
এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মাঝেই গল্পে প্রবেশ করে নিশীথ, যার আগমনে গল্পে নতুন মাত্রা যোগ হয়। তার উপস্থিতিতেই ‘রঞ্জন’ নামের এক প্রতীকী চরিত্রের জন্ম হয়, যা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নয়, বরং একটি আন্দোলনের নাম, এক জাগরণের প্রতিচ্ছবি। পরিচালক জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিন বছরের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই ছবির চিত্রনাট্য এবং বোলপুরের মনোরম পরিবেশে সম্পূর্ণ শুটিং হওয়ায় ছবির ভিজ্যুয়াল আরও বাস্তব এবং জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
অভিনয়শিল্পীদের মতে, এই ছবি শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, বরং বর্তমান সমাজের এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। যুধাজিৎ সরকার মনে করেন, এই ছবিতে সেই সব কথা বলা হয়েছে যা সাধারণ মানুষ বলতে ভয় পায়। শ্রীতমা দে এই ছবিকে সমাজ এবং রাজনীতির আয়না বলে মনে করেন, আর দীপক হালদার বলেন, এই সময়ে দাঁড়িয়ে এমন একটি ছবি মানুষের মধ্যে সাহস জোগাবে। সত্যকাম আনন্দ এবং মৌ দুজনেই এই ছবিকে তাদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
আরও পড়ুনঃ রাহুলের মৃ’ত্যুর প্রতিবাদ মিছিল থেকে টলিউড বৈঠক, কোথাও ছিলেন না সুপারস্টার! সবাইকে চমকে হঠাৎ কাল রাতেই অভিনেতার বাড়িতে উপস্থিত জিৎ! প্রয়াত অভিনেতার মায়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ, কী বললেন তিনি?
দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর বড় পর্দায় মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে “রঞ্জন আসছে” ছবিটির। এটি শুধু বিনোদনের জন্য তৈরি নয়, বরং মানুষের আত্মসম্মান, অধিকার এবং প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে সামনে নিয়ে আসার একটি প্রচেষ্টা। বর্তমান সময়ে যখন অনেকেই নীরব থাকতে বাধ্য হন, তখন এই ছবি সেই নীরবতা ভাঙার সাহস দেয়। “রঞ্জন আসছে” তাই এক অর্থে একটি সামাজিক দলিল, যা দর্শকের মনে প্রশ্ন তুলবে এবং নতুন করে ভাবতে শেখাবে।






